প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। ইরান চুক্তিতে না আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন টেলিভিশন সিএনবিসি’র বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। ইরান যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, তবে তারা ‘খুব ভালো অবস্থানে’ যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনায় বসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অস্ত্র মজুত করেছে এবং প্রয়োজন হলে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন,আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ ও সব ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। এই সময়টাকে আমরা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছি। তারাও (ইরান) হয়তো কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া হাজারো নাবিকের জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)।
সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। আইএমও’র বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং ২ হাজার জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ সিঙ্গাপুরে এক সামুদ্রিক সম্মেলনে বলেন, আটকে পড়া নাবিকরা মারাত্মক মানসিক চাপ ও ক্লান্তিতে ভুগছেন। তিনি শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা বাড়ানোর জন্য। ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, কিছু দেশ নাবিকদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু করেছে এবং কিছু জায়গায় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
তবে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—বিশেষ করে নাবিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাদের কথা শোনা, যাতে তারা একাকীত্ব অনুভব না করে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই আহ্বান এমন এক সময় এলো যখন বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।





