ঢাকা শহর ফাঁকা, নেই কোলাহল-যানজট

0
ঈদের দিনে ফাঁকা ঢাকা, নেই কোলাহল-যানজট

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ আবদুল মান্নান: যানজট, মানুষের ভিড় আর ব্যস্ততায় সর্বদা মুখর থাকা ঢাকা শহরে আজ নেই সেই চিরচেনা কোলাহল। চারদিকে নীরবতা, পথঘাট ফাঁকা। মূল সড়কে বাসের সংখ্যা কম, রিকশাও তেমন বেশি নেই। সড়কে মানুষের উপস্থিতিও হাতেগোনা। নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে নগরবাসীর বড় একটি অংশ গ্রামে চলে যাওয়ায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে সড়ক ও জন সমাগম স্থলগুলো।

কর্মব্যস্ত এই নগরীতে নেই সেই চেনা যানজট কিংবা মানুষের ভিড়।হাতেগোনা কিছু মানুষ ঈদের নতুন পোশাক পরে সড়কে হাঁটাহাটি করছেন। কিছু প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেখা গেছে। বাসের সংখ্যা কম, আর যেগুলো চলছে সেগুলোও প্রায় যাত্রীশূন্য। তবে রিকশা ও সিএনজি কিছুটা দেখা গেলেও তা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। এদিকে রিকশা ও সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, স্বল্প দূরত্বেও চালকরা আগের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছেন।

যদিও চালকদের দাবি, ঈদের দিন হওয়ায় কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তবে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছেন। ফাঁকা ঢাকা উপভোগ করছেন অনেকেই। রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন,কী একটা শান্তি! মানুষের ভিড় নেই, রাস্তায় যানজট নেই। এই রকম ঢাকা যদি সবসময় থাকত, কী যে ভালো লাগত। মনির হোসেন নামের আরেকজন বলেন,উত্তরা থেকে বাসে করে মুগদা আসতে লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট। বাসে যাত্রী ছিল না, জায়গায় জায়গায় বাস দাঁড়ানোর পরও এত কম সময় লেগেছে।

মুগদা বিশ্বরোডে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা রাইদা পরিবহনের চালক মো. ইদ্রিস বলেন, “যাত্রী নেই মামা। যে তেল পোড়ামু ওইটা উঠবে বলে মনে হয় না। যাত্রীদের কাছে কয়েকটা টাকা বেশি চাইলে যায় খেপে।” মতিঝিল এলাকায় ভাড়া বেশি চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক যাত্রীর সঙ্গে সিএনজি চালকের বাগবিতণ্ডাও হয়। মো.মিলন নামের ওই যাত্রী বলেন,ঈদের দিন ভাড়া একটু বেশি নিতেই পারে। কিন্তু ওরা তো দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া চাইছে। আগে যেখানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিতাম, সেখানে এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা চাচ্ছে।

এখন তো রাস্তায় জ্যাম নেই, ভাড়া তো কম নেওয়ার কথা।”ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিএনজি চালক হৃদয় বলেন, “রাস্তাঘাটে মানুষ নাই। আমাদের তো জমার টাকাটা তুলতে হবে। ঈদে দেশে যাই নাই, কয়টা পয়সা কামানোর লাইগা। কয়টা বেশি টাকা চাইলে যাত্রীরা চ্যাট করে উঠে।

জানা গেছে, ঘরমুখো মানুষদের বাড়ি ফেরার হিড়িক পড়ে গেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই। চাকরিজীবীরা আগেই পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে। ফলে মহাসড়ক ফাঁকা, নেই গাড়ির স্রোত। এই ধারা অব্যাহত ছিল সোমবার দিবাগত রাত পর্যন্ত। কারণ সোমবার ঈদের আগে শেষ কার্য দিবস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here