না’গঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

0
না’গঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে বিগত সরকারের আমলের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক জনপ্রতিনিধি গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ আসা সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ করেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার আলীরটেক, কুতুবপুর, বক্তাবলী, ফতুল্লা, কাশীপুর, গোগনগর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে গোগনগর ইউনিয়নে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বেশি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঈদ সামগ্রী, রমজানের উপহার কিংবা দুর্যোগের সময়ের ত্রাণ—কোনোটিই নিয়ম অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা পাঠানো হয়েছিল, তার বড় অংশই জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এলাকাবাসীর দাবি, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি ঈদে সরকার গরিব মানুষের জন্য প্রায় ১০ কেজি করে চাল এবং কখনো খেজুর দেওয়ার ব্যবস্থা করত। কিন্তু বাস্তবে এসব সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়নি।

বরং এসব ত্রাণের বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানানোও হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রাণ কার্ডের সুবিধাগুলো চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ঘনিষ্ঠ বা নিজস্ব লোকজনের মধ্যেই বেশি বিতরণ করা হতো। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য যে সুযোগ বা নিয়োগ আসত, সেটিও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো হতো না।

অনেকেই জানান, এসব বিষয়ে আগে তেমনভাবে কেউ জানতেন না। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গতকাল এমপি হাসনাত আব্দুলহর লাইভে এসে আলোচনা শুরু এবং সকল তথ্য প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদি এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এমন কর্মসুচি না করতেন তাহলে হয়তো এজীবনে কোনো মানুষ জানতো না যে সরকার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য কি কি বিনামূল্য বিতরণ করা হয়।

তাই স্থানীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে ত্রাণ বা সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষকে গোপনে টাকা দিতে হয়েছে। বিশেষ করে রিলিফ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে রয়েছে। টাকা না দিলে অনেককে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

পূর্ব গ্রামের বাসীন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের কারণে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here