ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ওয়াক আউট

0
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ওয়াক আউট

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ উদ্বোধনী অধিবেশনেই ওয়াক আউট, মাইক নষ্টের কারণে বিলম্বসহ নানা কারণে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিন ঘটনাবহুল হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরুতে অধিবেশন কক্ষে ছিল বেশ উৎসবমুখর। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই নিজ আসন গ্রহণ করেন।

এসময় সরকার ও বিরোধীদলের অনেক সংসদ সদস্যকে তার আসনের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। এতে যোগ দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। বেলা ১১টা ২ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ নেতার ডান পাশের আসন নির্ধারিত করা তাঁর জন্য। বিএনপি মহাসচিবকে দেখেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিব্রত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে দাঁড়াতে বাধা দেন।কয়েক মিনিট পরেই স্পিকারের আসন শূন্য রেখে শুরু হয় জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন। কোরআন তেলাওয়াতের পরেই সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতিনিধিত্ব করছি। সংসদকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু করতে সকল দলের সমর্থন আশা করছি। দল-মত, নীতি-আদর্শ ভিন্ন হলেও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে যেন এক হতে পারি। সংসদ নেতা তাঁর বক্তৃতায় বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, তারা হয় পলাতক, না হলে নিখোঁজ।

আমি অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার জন্য বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করছি। এরপর স্পিকারের আসনে গিয়ে বসেন ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শুরু হয় স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শুরু করেন।তিনি বলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সজ্জন ব্যক্তিত্ব। আমরা তাকে সমর্থন করছি, তবে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে আলোচনা হলে ভালো হয়।

স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একক প্রস্তাব পাওয়ার কথা তুলে ধরেন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রস্তাব ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে নির্বাচিত হন তারা। এ সময় ভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থাকেন জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন ৩০ মিনিটের বিরতি দিয়ে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ আয়োজন চলে শপথ কক্ষে। ১২টা ৫৫ মিনিটে আসন গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

তাঁর আসন গ্রহণের সঙ্গেই কথা বলার জন্য মাইক চান জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এসময় অনেক চেষ্টা করেও নিজের মাইক চালু করতে ব্যর্থ হন স্পিকার। কয়েক মিনিটের চেষ্টা বিফল হলে ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন হাতে নেন স্পিকার। যান্ত্রিক গোলযোগের কথা জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করলে সংসদ সদস্যরা শুনতে পাচ্ছেন না বলে আওয়াজ দেন। একই সময়ে জোহরের আযানের আওয়াজ ভেসে আসছিল দূর থেকে। তখন ২০ মিনিটের বিরতী দেন অধিবেশন।নামাজের পর দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে শুরু হয় অধিবেশন।

স্পিকার স্বাগত ভাষণে বলেন, একটু আগে আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি, আমি আর বিএনপির কেউ না। আমি এখন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, সকল সংসদ সদস্যই আমার কাছে সমান।এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ যেন কোনও ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রেপরিণত না হয়। অতীতে সংসদে জনস্বার্থের আলোচনা অপেক্ষা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হননের ঘটনাই বেশি ঘটেছে।

নতুন এই সংসদ জনগণের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মঞ্চ হয়ে উঠুক।অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কার্যপরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের একটি প্যানেল স্পিকার নির্বাচন করা হয়। প্যানেল নির্বাচনের পর শোক প্রস্তাব তুলে ধরেন স্পিকার। এতে সরকার ও বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বেশকিছু নাম যুক্ত করার পর চলে আলোচনা। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী।

তারপর অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশের ওপর নির্ভর করছে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য। এ পর্যন্ত পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত ছিল অধিবেশন কক্ষ। রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁরা প্রত্যেকে হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন।

প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’–সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান। তাদের ম্লোগান ও প্রতিবাদের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করে স্পিকারের ডান পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই শুরু হয় জাতীয় সংগীত, কিছুটা হৈচৈ কমে যায়।

জাতীয় সংগীত শেষে বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা আরও বেশি হৈচৈ করতে থাকেন। বেলা ৩টা ৩২ মিনিটে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।

চলতে থাকে অধিবেশন, ৪৭ মিনিট বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুই দিনের মুলতবি দিয়ে ১৫ মার্চ অধিবেশন বসবে বলে জানান স্পিকার। তবে এদিন আর বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের অধিবেশন কক্ষে ফিরতে দেখা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here